প্রত্যাবর্তনেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন মিচেল মার্শ। ওভালে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনিই অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার। চলতি অ্যাশেজে এর আগে কোনও টেস্ট খেলেননি তিনি। গত বছরের বক্সিং ডে টেস্ট থেকেই তিনি দলের বাইরে।

প্রত্যাবর্তন যতই মধুর হোক, মিচেল মার্শ অভিমানীই থাকছেন। নিজের দেশেই যে ক্রিকেটপ্রেমীরা তাঁকে সে ভাবে পছন্দ করেন না, তা বলছেন নিজেই। গত বছর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার‘সেন্ট্রাল কনট্র্যাক্ট’ হারানো মার্শ সাফ বলেছেন, “হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ায় অধিকাংশ সমর্থকই আমাকে ঘৃণা করে। এর জন্য দায়ী আমার ফর্ম। অজিরা ক্রিকেটের ব্যাপারে খুব আবেগপ্রবণ। ক্রিকেটারদের থেকে সব সময়ই ভাল পারফরম্যান্স চাওয়া হয়। আমি অবশ্য টেস্ট পর্যায়ে এর আগে অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারিনি। তবে যে ভাবে ফিরে এসেছি, তার জন্য সম্মান আশা করছি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে ভালবাসি, ভালবাসি ব্যাগি গ্রিন টুপিকেও। আশা করছি, একদিন সমর্থকদের মন জিততেও পারব।”

২৭ বছর বয়সি অলরাউন্ডার বলছেন, চুক্তি হারানোর পর নিজের উপরই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন। আর কখনও জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন কিনা, সেই সংশয় উঁকি মেরেছিল মনে। ব্যক্তিগত কিছু সমস্যাও প্রভাব ফেলেছিল পারফরম্যান্সে।

আরও পড়ুন: ফিল হিউজ স্মৃতি উস্কে মাথায় বল লেগে হাসপাতালে রাসেল

আরও পড়ুন: প্রথম দিনেই চমক মিচেল মার্শের বোলিং​ 

গত ছয় মাস ধরে অবশ্য প্রাণপণ খেটেছেন জাতীয় দলে ফেরার। বদলে ফেলেছেন লাইফস্টাইল, পাল্টে ফেলেছেন খাওয়ার অভ্যাস। মায়ের হাতের ‘রোস্ট’ পরিত্যাগ করে জোর দিয়েছেন ফিটনেসে। শন মার্শের ভাইয়ের কথায়, “গত ছয় মাস সব কিছু উজাড় করে দিয়েছি। মা ভালবাসেন আমাকে খাওয়াতে। কিন্তু এই কয়েক মাসে সে ভাবে মায়ের হাতের রোস্টও খাইনি। কোনও লুকনো রেসিপি নেই। আমি শুধু আরও একটা সুযোগের আশায় পরিশ্রম করে গিয়েছি।” আর সেই সুযোগ পেয়েই বল হাতে চমকে দিয়েছেন মিচেল মার্শ। বৃহস্পতিবার টেস্টের প্রথম দিনে নিয়েছিলেন চার উইকেট। শুক্রবার জ্যাক লিচকে ফিরিয়ে টেস্ট কেরিয়ারে প্রথমবার নিলেন পাঁচ উইকেট।