আগেই বলেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হওয়ার পরে তাঁর লক্ষ্য এখন অলিম্পিক্স সোনা। তার জন্য নিজেকে ফিট রাখাটাই এখন সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পি ভি সিন্ধুর। কারণ অলিম্পিক্সে যোগ্যতা অর্জন করতে হলে টানা প্রতিযোগিতা খেলে যাওয়ার ধকলও সামলাতে হয় খেলোয়াড়দের। সিন্ধু অবশ্য বলছেন তিনি বেছে বেছে প্রতিযোগিতায় নামতে চান। যাতে অলিম্পিক্সে ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন। 

অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্ব শুরু হয়েছে ২৯ এপ্রিল থেকে। বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থা ৩০ এপ্রিল ২০২০ সালের র‌্যাঙ্কিং তালিকা থেকে টোকিয়ো অলিম্পিক্সের খেলোয়াড় বেছে নেবে। তবে গত মরসুম থেকে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থা নিয়ম করেছে সিঙ্গলসে প্রথম ১৫ জন এবং ডাবলসে প্রথম ১০টি জুটিকে ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ১৫টির মধ্যে ১২টি প্রতিযোগিতায় খেলতেই হবে। না হলে পেতে হবে শাস্তি। তবে সিন্ধু বলছেন, ‘‘যেহেতু পরের বছরই অলিম্পিক্স তাই এ মরসুমে প্রত্যেকটি প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক এবং শারীরিক ভাবে তরতাজা থাকতে হবে, ফিটনেস ধরে রাখতে হবে। কোর্টে নেমে একশো শতাংশ দিতে হবে।’’ সঙ্গে সিন্ধু আরও যোগ করেন, ‘‘তাই চোটমুক্ত থাকার জন্য আমাকে বেছে বেছে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।’’

গত অগস্টে ফাইনালে জাপানের নজোমি ওকুহারাকে হারানোর পরে প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতার কৃতিত্ব গড়েন সিন্ধু। তার আগে দু’বার সিন্ধু ফাইনালে পরাজিত হয়েছিলেন। সিন্ধু বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খেলাধুলোয় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব দেখানো খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন। সঙ্গে তাঁকে সমর্থন জানিয়ে আসার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনাদের সবার সমর্থন আমার কাছে আশীর্বাদের মতো। দেশের কোটি কোটি মানুষ আমার পাশে রয়েছে। এই সমর্থন নিয়েই আমি টোকিয়ো অলিম্পিক্সে নামব। আশা করি নিজের সেরাটা দিয়ে সোনাও জিততে পারব।’’

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এর আগে দু’বার ফাইনালে ব্যর্থতার পরে সিন্ধুর সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এমনকী চলতি মরসুমে তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সমালোচনার ঢেউ আছড়ে পড়েছিল তখনও। তবে ধাক্কা খেলেও সিন্ধু কখনও ভেঙে পড়েননি। আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্ব মঞ্চে সোনা জিতে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। অলিম্পিক্সেও তাঁর সেই দাপট দেখার অপেক্ষায় এখন ভক্তরা।