দলীয় সাংসদ অর্জুন সিংহের উপরে ‘পুলিশি হামলা’র অভিযোগকে হাতিয়ার করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ফের সরব হল বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের উপরে ‘হামলা’র পরে আরও এক সাংসদ আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জাতীয় স্তরে সরব হওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা। ঘটনার প্রতিবাদে আজ, সোমবার ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকায় ১২ ঘণ্টার বন্‌ধের ডাক দিয়েছে তারা। দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের উপরে পরপর হামলার প্রতিবাদে আজই সব জেলায় পুলিশ সুপারের দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভেরও কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করেছেন, এ সবই বিজেপির ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির ‘অপচেষ্টা’। মানুষই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবেন তাঁদের দাবি।

নিজের এলাকায় পুলিশের মারে অর্জুনের মাথা ফাটার অভিযোগ ওঠার পরে শ্যামনগর, জগদ্দল-সহ ব্যারাকপুর এলাকার নানা জায়গায় রবিবারই পথ অবরোধ ও বিক্ষোভে নামেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরে অর্জুনকে হাসপাতালে দেখতে যান বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়। দলের সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি জে পি নড্ডার বক্তব্য, ‘‘দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা এবং সাংসদ ও বিধায়কের উপরে হামলা করে তৃণমূল গণতন্ত্রকেই হত্যা করছে। পুলিশ যে ভাবে শাসক দলের হয়ে কাজ করছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করছেন।’’

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় পাল্টা বলেছেন, ‘‘লোকসভায় বিজেপি ১৮টা আসন জেতার পর থেকেই অশান্তি ও অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। প্রকৃত জনসমর্থন তাদের থাকলে এই কাজ করতে হত না! বিজেপির লক্ষ্য বিশৃঙ্খলা তৈরি করে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নেই বলে হইচই করা!’ রাজ্যের মানুষই বিজেপির ‘অপচেষ্টা’ রুখে দেবেন বলে পার্থবাবুর দাবি।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘বিধায়ক, সাংসদেরাও আর এই রাজ্যে নিরাপদ নন। বাংলার আইনশৃঙ্খলার হাল কী, প্রতিদিন তা বোঝা যাচ্ছে!’’ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের অভিযোগ, ‘‘দিদির পুলিশের হাতে বাংলার আরও এক সাংসদ আক্রান্ত। তার পরে পুলিশ উল্টো কথা বলছে। গত চার বছর ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ এই কাজ করছে। পুলিশের আচরণের তীব্র নিন্দা করছি।’’ রাজ্যে বিরোধীদের পিষে মারার চেষ্টা হচ্ছে বলে সরব হয়েছেন আরও এক কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও।

অর্জুনের অভিযোগ, তাঁর ছেলে ও ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিংহও আহত হয়েছেন ‘অজানা কারণে’ পুলিশ তাঁর পরিবারের লোক ও দলীয় কর্মী-সহ ২০-২৫ জনকে তাঁর বাড়ি ‘মজদুর ভবন’ থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। ‘গণতন্ত্রকে হত্যা’ করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। মুকুলবাবু বলেছেন, রাজ্য পুলিশ ও শাসক দলের মধ্যে ‘অশুভ আঁতাঁত’ গড়ে উঠেছে। তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আবার পাল্টা অভিযোগ, ‘‘অশান্তি ছড়িয়েছে বিজেপিই। পুলিশকে ইট ছুড়েছে ওরাই। অর্জুন নিজের লোকজনকে দিয়ে হামলা করিয়ে পুলিশকে দোষ দিচ্ছে।’’ আর বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের মতে, ‘‘তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলই হিংসার প্রতিযোগিতায় নেমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নষ্ট করছে।’’