বঙ্গে ধনকুবের সাংসদের সংখ্যা বেড়ে ৩১
ওই সংস্থার রাজ্য কো-অর্ডিনেটর উজ্জয়িনী হালিম জানান, ২০১৪ সালের তুলনায় কোটিপতি সাংসদের সংখ্যা এ বার পাঁচ বেড়ে হয়েছে ৩১।
MP

দেব এবং আবু হাসেম খান চৌধুরী। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৪ সালে কোটিপতি সাংসদের সংখ্যা ছিল ২৬। আর এ বার এই রাজ্যে জয়ী ৪২ সাংসদের মধ্যে ৩১ জনই কোটিপতি। অর্থাৎ কোটিপতি সাংসদের সংখ্যা বেড়েছে। সপ্তদশ লোকসভায় রাজ্যের ৪২টি আসনে জয়ী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ’। 

ওই সংস্থার রাজ্য কো-অর্ডিনেটর উজ্জয়িনী হালিম জানান, ২০১৪ সালের তুলনায় কোটিপতি সাংসদের সংখ্যা এ বার পাঁচ বেড়ে হয়েছে ৩১। সম্পদের গড় হিসেব করলে সাংসদদের মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। 

এ বার রাজ্যের লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনে মোট ৪৬৬ জন প্রার্থী ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচের সমীক্ষা জানাচ্ছে, ওই ৪৬৬ জনের মধ্যে কোটিপতি ছিলেন ১০৯ জন। সব থেকে বেশি সম্পদশালী হলেন যথাক্রমে কলকাতা (দক্ষিণ) কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিতা চক্রবর্তী, জঙ্গিপুরের তৃণমূল প্রার্থী খলিলুর রহমান এবং ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেব। এঁদের মধ্যে মিতা ছাড়া বাকি দু’জনেই সাংসদ হয়েছেন। রাজ্যের তিন নম্বর ধনী সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মালদহ (দক্ষিণ)-এর কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী।

ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সব থেকে বেশি উপার্জনকারী সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্ষিক আয় ১৭ কোটি টাকারও বেশি। তাঁর পরেই রয়েছেন যথাক্রমে দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা (বার্ষিক আয় বছরে ১৫ কোটি টাকার বেশি) এবং ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (বার্ষিক আয় এক কোটির বেশি)।

সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে, তৃণমূলের ২২ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই কোটিপতি। বিজেপির ১৮ জন সাংসদের মধ্যে কোটিপতি ন’জন এবং কংগ্রেসের দুই সাংসদই কোটিপতি। কংগ্রেস সাংসদদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি টাকা। তৃণমূল সাংসদদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ছ’‌কোটি টাকা এবং বিজেপি সাংসদদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ গড়ে দু’‌কোটি টাকার কিছু বেশি। 

তবে এত কোটিপতির মধ্যে তুলনামূলক কম সম্পত্তিশালী সাংসদও রয়েছেন কয়েক জন। ওই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, সব থেকে কম সম্পত্তি রয়েছে বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অসিত মালের। তাঁর পরেই রয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লা এবং পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ।

উজ্জয়িনী জানান, এ বারের ভোটে অনেক অভিযুক্ত প্রার্থী জিতে সাংসদ হয়েছেন। বঙ্গ ব্রিগেডের ৪২ জন সাংসদের মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধেই নানান অভিযোগ রয়েছে। এবং তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের বিরুদ্ধে রয়েছে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগও।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত