তাঁর সঙ্গে নারদ স্টিং অপারেশনের কোনও সম্পর্ক নেই। মঙ্গলবার ই-মেল করে সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের কাছে এমনটাই দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ তথা তহেলকার ডিরেক্টর কানোয়ার দীপ সিংহ ওরফে কেডি সিংহ।

নারদ-কাণ্ডে ছদ্মবেশী সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল সিবিআই-কে জানিয়েছিলেন, কেডি-র কথাতেই তিনি ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় এসে স্টিং অপারেশন চালিয়েছিলেন। এমনকী, এ রাজ্যে প্রভাবশালীদের হাতে যে টাকা তাঁকে দিতে দেখা গিয়েছে, সেই টাকা কেডি-ই দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন ম্যাথু। তাঁর দাবি ছিল, তখন সল্টলেকে কেডি-র অফিস থেকে তাঁকে প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে তহেলকা-কর্তা কেডির কাছে ই-মেল করে ওই টাকার কথা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে মঙ্গলবার সকালে কেডি সিংহ ই-মেল করে জানিয়েছেন, তিনি নারদ স্টিং অপারেশন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ওই অপারেশনের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্কও নেই। এ দিন কথা বলার জন্য কেডি-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মোবাইলে পাঠানো বার্তারও জবাব দেননি।

কেডি-র ই-মেল প্রসঙ্গে নারদ-কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল বলেন, ‘‘আমি সমস্ত নথি হাইকোর্টে জমা দিয়েছি। তহেলকা-কর্তা কেডি সিংহের সংস্থা অ্যালকেমিস্ট থেকে কী ভাবে টাকা নেওয়া হয়েছিল, সে সব বিষয়েও সিবিআই এবং ইডির কাছে নথি পেশ করা হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘সল্টলেকে অ্যালকেমিস্টের অফিসের যে দুই কর্মচারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের নামও সিবিআই এবং ইডির অফিসারদের কাছে লিখিত ভাবে দেওয়া হয়েছে।’’ ই-মেলে কেডির জবাবের প্রেক্ষিতে আগামী ১০ জানুয়ারি কলকাতার নিজাম প্যালেসে ম্যাথুকে ডেকে পাঠিয়েছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের বক্তব্য, ২০১৪ সালে, কলকাতায় স্টিং অপারেশন চালানোর সময় তহেলকা নামে ওই সংবাদ সংস্থায় চাকরি করতেন ম্যাথু। ২০১৬ সালে তহেলকা ছেড়ে ম্যাথু নিজে নারদ নিউজ ডট কম নামে একটি সংস্থা খোলেন। তার পরেই দু’বছর আগে গোপন ক্যামেরায় তোলা প্রভাবশালীদের টাকা দেওয়ার সেই ছবি সম্প্রচার করা হয়।