উপসাগরীয় দেশগুলি নয়, তাঁদের লক্ষ্য শুধু মার্কিন ঘাঁটি এবং সম্পত্তি, এমন দাবি করলেন ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী সঈদ খাতিবজ়াদেহ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানের সামরিক অভিযান আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলর বিরুদ্ধে। প্রতিবেশী আরব দেশের কোনও ক্ষয়ক্ষতি করা উদ্দেশ্য নয়। ইরানের সামরিক হামলায় ওই সব দেশে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সঈদ বর্তমানে নয়াদিল্লিতে রয়েছেন। রাইসিনা সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় তিনি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক অভিযান কেবল মার্কিন সম্পদে কেন্দ্রীভূত। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের আক্রমণে আরব-বন্ধু বা প্রতিবেশী দেশগুলির কারও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি কেন জানেন? কারণ, আমরা শুধুমাত্র মার্কিন ঘাঁটি, সম্পত্তি এবং আবাসিক এলাকায় থাকা গোপন মার্কিন আস্তানাকেই নিশানা করছি।’’
ওয়াশিংটন বার বার দাবি করেছিল, আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে খাতিবজ়াদেহ জানান, ইরানের শাসন কাঠামো কোনও ব্যক্তি নির্ভর নয়, প্রতিষ্ঠান নির্ভর। তাঁর কথায়, ‘‘ইরান একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্ভর দেশ। তার একটি সংবিধান, দায়িত্ব বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশে একটি বিচার বিভাগ, আইনসভাও রয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে প্রথমে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আমেরিকাও। যৌথ হামলায় প্রাণ হারান খামেনেই। পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরানও। তার পরই সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। ইরান বিভিন্ন দেশে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র সহযোগে হামলা করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার, ইরাক, তুরস্ক, বাহরিন, জর্ডন-সহ বিভিন্ন দেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এর পর থেকে। মার্কিন দূতাবাসগুলিতে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।।
সেই সংঘাতের আবহে খাতিবজ়াদেহ স্পষ্ট জানান, মার্কিন ঘাঁটি বা সম্পদ ছাড়া আর কোথাও কোনও ক্ষতি চায় না ইরান। শুধু তা-ই নয়, আলোচনা চেয়ে আমেরিকাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করছেন, তা-ও নস্যাৎ করেছে তেহরান। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, কোনও ভাবে আমেরিকার কাছে মাথা নত করবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৩:৩০
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়বে! আমেরিকা ও ইরানের দ্বিতীয় বৈঠকের আগে দাবি মার্কিন বাহিনীর প্রাক্তন প্রধানের -
১৩:১৪
‘পালানোর চেষ্টা করলেই গুলি চলবে’! ইরান নৌবন্দরের কাছে জাহাজ দেখতে পেয়েই কপ্টার থেকে হুঁশিয়ারি মার্কিন সেনার -
১০:১০
‘ইতিবাচক বার্তা মিলেছে’, ইসলামাবাদের শান্তিবৈঠকে ইরান যোগ দেবে! এখনই আশা ছাড়ছে না পাকিস্তান: রিপোর্ট -
০৮:৩১
‘যুদ্ধে জিতছি’, ঘোষণা করলেন ট্রাম্প, হুমকি দিয়ে আলোচনার টেবিলে বসানো যাবে না! সংঘাতের বার্তা দিল ইরানও -
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?