২১ ঘণ্টার আলোচনা। কিন্তু ফলাফল শূন্য। ম্যারাথন আলোচনার পর শেষেমেশ আমেরিকাকে ‘খালি হাতেই’ ফিরতে হল। যদিও তারা এই আলোচনার ব্যর্থতার জন্য দায় ঠেলছে ইরানের দিকেই। অভিযোগ, সমঝোতায় সদিচ্ছার অভাব রয়েছে তেহরানের। প্রসঙ্গত, শনিবারের এই বৈঠকের দিকেই নজর ছিল গোটা বিশ্বের। যদিও বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে তা ঘিরেও সংশয় ক্রমশ বাড়ছিল। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক নিয়ে আশাবাদী ছিল দু’পক্ষই। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হল না। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার পরিবেশ যে স্বাভাবিক ভাবে আরও বাড়বে, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।
বৈঠক শেষে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দাবি করেন, ইরান তাঁদের সঙ্গে ঠিক মতো সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। তাঁরা এখন আমেরিকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পুরো দায় তেহরানের উপরই ঠেলেছে আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, ইরানের ‘অনমনীয়’ মনোভাবেরও সমালোচনা করা হয়েছে আমেরিকার তরফে। তবে ইরান অন্য দাবি করছে। তাদের পাল্টা দাবি, আমেরিকা এমন কিছু ‘অযৌক্তিক দাবি’ করছিল যেগুলি দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে, দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ‘‘ইরানের প্রতিনিধি দল ২১ ঘণ্টা ধরে টানা আলোচনা চালিয়ে গিয়েছে যাতে একটা সমাধানের রাস্তা বেরিয়ে আসে। কিন্তু আমেরিকা আলোচনা টেবিলে এমন কিছু অযৌক্তিক দাবি রেখেছিল যে, সেগুলি কোনও ভাবেই তেহরান মানতে রাজি হয়নি। আর এই অযৌক্তিক দাবিই আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িায়। কোনও সমাধানসূত্র ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়ে যায়।’’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স আলোচনা শেষে বেরিয়ে যখন প্রথম ঘোষাণ করেন যে, একটা দুঃসংবাদ রয়েছে। ইরানের সামনে তাঁরা ‘ভাল এবং চূড়ান্ত’ প্রস্তাব রাখার পরেও তারা তাতে সম্মত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘‘এখন এটাই দেখার বিষয় ইরান এই প্রস্তা গ্রহণ করে কি না।’’
ভান্সের এই বক্তব্যের ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয়। তাদের পাল্টা দাবি, আমেরিকার মধ্যে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তারা যে ধরনের প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে রেখেছে, যেগুলির প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসা হচ্ছিল। তবে কী প্রস্তাব দিয়েছিল সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করেনি তারা। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স জানিয়েছেন, ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওরা সেটা মানতে রাজি হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানের কাছ থেকেই আমরা এই আশ্বাসই পেতে চেয়েছিলাম যে, ওরা পরমাণু কর্মসূচি চালাবে না। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করবে না। আর এটাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সেই আশ্বাস পেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা আশাহত হয়েছি। আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।’’