জন্মছকে নীচস্থ বা খারাপ অবস্থানে থাকা গ্রহদের কুপ্রভাব হ্রাস করার জন্য অনেকেই পুজোআচ্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন অথবা নির্দিষ্ট রত্ন ধারণ করেন। তবে গ্রহের অবস্থান ঠিক করা যায় একটি মাত্র গাছের মাধ্যমেই। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, নবগ্রহের অশুভ প্রভাব কাটাতে বা গ্রহের শক্তি বৃদ্ধি করতে নির্দিষ্ট কিছু গাছের মূল ধারণ বা সেই গাছের পরিচর্যা করলে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে। নীচে প্রতিটি গ্রহের জন্য শুভ গাছের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হল—
সূর্যকে সম্মান ও প্রতিপত্তির প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। সূর্যের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য আকন্দ গাছের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত শুভ। রবিবার এই গাছের পুজো করলে আপনার সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে।
শান্তি, মানসিক চাপ মুক্তি এবং মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য চন্দ্রের প্রভাবকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা অপরিহার্য। এই গ্রহের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য পলাশ গাছ অত্যন্ত উপকারী। পলাশ গাছের যত্ন নিলে একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং পারিবারিক সম্পর্কে সম্প্রীতি বজায় থাকে।
আরও পড়ুন:
মঙ্গল গ্রহ হল শক্তি, সাহস এবং ভূমির অধিপতি। অতিরিক্ত মেজাজ বা ক্রোধজনিত সমস্যা থাকলে মঙ্গলের অশুভ প্রভাব প্রশমনের জন্য খয়ের গাছ রোপণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই গাছ মানুষের সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি করে।
বুধ গ্রহ বুদ্ধি, যোগাযোগ দক্ষতার প্রতীক। সিদ্ধান্তগ্রহণের সময় আপনি যদি বাধার সম্মুখীন হন, তবে বুধ গ্রহের অবস্থান অনুকূল করতে অপমার্গ গাছ অত্যন্ত শুভ। শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এই গাছটি বিশেষ ভাবে উপকারী।
বৃহস্পতিকে জ্ঞান, সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসাবে গণ্য করা হয়। আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং দাম্পত্যসুখ লাভের জন্য বৃহস্পতির শুভ প্রভাব লাভ করা অপরিহার্য। বৃহস্পতিবার অশ্বত্থ বা কলা গাছের পুজো করলে দারিদ্র দূর হয় এবং আর্থিক সঙ্কট কেটে যায়।
আরও পড়ুন:
শুক্র গ্রহ পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতীক। দাম্পত্যজীবনে কোনও রকম অশান্তি থাকলে শুক্র গ্রহকে শক্তিশালী করার জন্য ডুমুর গাছের সেবা করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়। এই গাছের প্রভাবে জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসিতা বৃদ্ধি পায়।
শনিদেবকে ন্যায়বিচার এবং কর্মফলের দেবতা হিসাবে গণ্য করা হয়। শনির সাড়েসাতির প্রভাবজনিত কষ্ট লাঘব করতে এবং শনিদেবের আশীর্বাদ লাভ করতে শমী গাছকে সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় শমী গাছের নীচে প্রদীপ জ্বালালে আপনার কাজের পথে থাকা বাধা-বিপত্তি দূর হয়।
রাহুর অশুভ প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য চন্দন গাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চন্দনের শীতলতা রাহুর ক্রোধ প্রশমিত করে এবং মনে স্বচ্ছতা প্রদান করে।
কেতু গ্রহ মোক্ষলাভ এবং মানসিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। কেতুকে শান্ত করতে অশ্বগন্ধা গাছকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই গাছ পুঁতলে কেতুর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।