আমরা কমবেশি পেটুক কিংবা খাওয়াদাওয়ায় তেমন নিয়ম মানি না, যা পাই, তা-ই খেয়ে নিই। অথচ মধ্যপ্রদেশ বর্ধিত হলেই ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’-এর মতো পেটকে দোষারোপ। ইশ! হাল ফ্যাশনের পোশাকে কী বিশ্রী দেখাচ্ছে। নিজের উপর রাগে পেটের মেদের উপর সার্জিকাল স্ট্রাইক করতে সঙ্গে সঙ্গে গুগল সার্চ। সেখানে দু’ দিনে তিন ইঞ্চি কমানোর ম্যাজিক ফর্মুলা পেয়েই নিশ্চিন্ত হন? তা হলে জানুন, টাইগার শ্রফের সিক্স প্যাক বা ক্যাটরিনার ফ্ল্যাট টামি সহজ ফর্মুলায় মরীচিকাই থেকে যায়।

বিদ্যুতগতিতে আমাদের শরীরে পরিবর্তন আনা শরীরবিজ্ঞান অনুযায়ী এককথায় অসম্ভব। তাই সহজ উপায়ে ভুঁড়ি কমানোর কোনও মন্ত্র কিন্তু হয় না। বরং খুব পরিকল্পনা করে সময় নিয়ে নানা কসরতেই মিলতে পারে ছিপছিপে শরীর।

তাই ‘অপারেশন ভুঁড়ি’-কে সাফল্য দিতে চাইলে তার চিত্রনাট্য কিন্তু হবে অন্য ধাঁচের। কোনও মেড ইজি বা শর্ট কাটের চোরাগোপ্তা ঠিকানা সেখানে থাকবে না। তাই দেখে নিন কোন পথে এগোলে পেটের মেদ ছেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ভাত খেয়েও রোগা থাকুন

  • গোড়াতেই জেনে নিন পেটের পেশীর জোর বাড়িয়ে টানটান ভাব আনার ব্যায়াম কিন্তু সরাসরি মেদ ঝরানোর ব্যায়ামের থেকে আলাদা। সিট আপ এখন ডাইনোসোরের মত বিলুপ্ত। ওটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আঁকড়ে ধরুন বিজ্ঞানসম্মত কোর এক্সারসাইজ। সরাসরি মেদ ঝরানোর ব্যায়াম হল দৌড় অথবা ওজন নিয়ে ব্যায়াম। কোথায় লগ্নি করবেন আর কতটা লাভের অঙ্ক পকেটে থুড়ি শরীরে পুরবেন সেটা নিশ্চয়ই বুঝেছেন। কিন্তু যদি পেশাদার ট্রেনারের সাহায্য ছাড়াই পেট কমানোর ব্যায়াম করুন।

  • আপনি শিক্ষানবীশ স্তরে আছেন না কি পারদর্শী সেটা আগে যাচাই করুন। না হলে চোট লাগার সম্ভাবনা আছে বইকি। আর এতে কাঙক্ষিত ফলও মিলবে না।

পেটের পেশীর জোর বাড়াবে এমন প্ল্যাঙ্ক।

সক্ষম হলে প্ল্যাঙ্কের সঙ্গে করুন আর্ম রিচ।

প্ল্যাঙ্ক: পেটের সামনের দিকের পেশীর জোর যাচাই করতে করুন প্ল্যাঙ্ক (ছবির মতো)। এটা ৫০–৬০ সেকেন্ড ধরে রাখার অর্থ হল আপনি মোটামুটি সক্ষম। আর ১০–১৫ সেকেন্ড ধরে রাখতে পারলে আপনি শিক্ষানবীশ। সক্ষম হলে করুন প্ল্যাঙ্ক আর আর্ম রিচ নামের এক্সারসাইজ (ভিডিয়ো দেখুন)। দু’হাতেই ১২ বার করে মোট ৩ বার। শিক্ষানবীশরা ১০ সেকেন্ড করে ৩–৪ বার।

প্ল্যাঙ্কের সঙ্গী হোক সাইড প্ল্যাঙ্ক।

অভ্যস্ত হয়ে উঠলে চেষ্টা করুন ডায়ানামিক সাইড প্ল্যাঙ্ক।

সাইড প্ল্যাঙ্ক: সবে সবে ব্যায়াম শুরু করেছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য আপাতত ১০ সেকেন্ড যথেষ্ট। ১০ সেকেন্ড করে ৩–৪ বার করুন। ৫০–৬০ সেকেন্ড ধরে রাখতে পারলে করুন ডায়ানামিক সাইড প্ল্যাঙ্ক (ভিডিয়ো দেখুন)। দু’দিকেই ১২ বার করে মোট ৩ বার।

কোমরের পেশীর জোর বাড়নোর অন্যতম সেরা ব্যায়াম ব্রিজ।

এক পায়ে ব্রিজ: কোমরের গভীরের পেশীর জোর পরীক্ষা করার ব্যায়াম (ছবির মতো)। শিক্ষানবীশ স্তরে থাকলে ১০ সেকেণ্ড করে ৩–৪ বার করুন এক পায়ে ব্রিজ। ৫০–৬০ সেকেণ্ড ধরে রাখতে পারলে করুন এক পায়ে ডায়ানামিক ব্রিজ (ভিডিয়ো দেখুন)। দুদিকেই ১২ বার করে মোট ৩ বার।

আরও পড়ুন: পাতে রাখুন এই সবজি, ডায়াবিটিস থেকে সর্দি-কাশি রেহাই মিলবে এতেই

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

 

এই কোর এক্সারসাইজগুলো সপ্তাহে ৫–৬ দিন করা যায়। এগুলো শেষ হলেই সরাসরি মেদ ঝরানোর জন্য বিরতিমূলক কিছু কার্ডিও করুন। শুধু মনে রাখবেন একটানা ৪৫ মিনিটের হাঁটা বা দৌড়ে যা ফল পাওয়া যায় তার ৩ গুণ ফল আসে এই ধরনের কার্ডিওতে। এর জন্য পার্ক বা মাঠ লাগে না। একটা ম্যাট বিছিয়ে মিউজিক চালিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লেগে পড়ুন।

জলের বোতল নিয়ে পাওয়ার ওয়াক: এটা শিক্ষানবীশদের জন্য। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দু’হাতে দুটো এক লিটারের জল ভর্তি বোতল নিয়ে যেন জোরে হাঁটছেন (ভিডিয়ো দেখুন)। ৩০–৪৫ সেকেণ্ড করুন। একটু বিশ্রাম নিয়ে ৫–৮ বার রিপিট করুন।

জলের বোতল নিয়ে হাই-নি: এটা সক্ষমদের জন্য। আগের মতো দু’হাতে জলের বোতল নিয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যেন দৌড়াচ্ছেন। (ভিডিয়ো দেখুন)। ৩০–৪৫ সেকেণ্ডন্ড করুন। একটু বিশ্রাম নিয়ে ৫–৮ বার রিপিট করুন।

এরকম আরও ২-৩ টে বিরতিমূলক কার্ডিও জুড়ে নিয়ে সপ্তাহে ৩–৫ দিন করুন। মনে রাখবেন কোর আর কার্ডিওর যোগফলে আপনার ‘অপারেশন ভুঁড়ি’ সফল হবে।

 (ছবি ও ভিডিয়ো: প্রতিবেদক)