সিঁদুর-মঙ্গলসূত্র পরা নিয়ে ট্রোল হতে হয়েছিল। ফতোয়া দিয়েছিলেন দেওবন্দের ইমাম। কিন্তু এমন জবাব দিয়েছিলেন নুসরত জাহান যে, মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সমালোচকদের। এ বার বসিরহাটের সেই তৃণমূল সাংসদ নুসরতকেই ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে রথযাত্রা উৎসবে আমন্ত্রণ জানালেন ইসকন কর্তৃপক্ষ। আমন্ত্রণ পেয়ে ইসকনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুসরত। ঘনিষ্ঠ মহলে নুসরত জানিয়েছেন, স্বামী নিখিল জৈনকে সঙ্গে নিয়েই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। অন্য দিকে তারকা সাংসদকে ‘সামাজিক সম্প্রীতির অগ্রদূত’ মন্তব্য করে আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য ইসকন কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিনন্দন জানিয়েছেন নুসরতকে। এ বারও ইসকনের রথযাত্রায় প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আগামী ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। মধ্য কলকাতার অ্যালবার্ট রোডে ইসকন মন্দিরের উল্টো দিকে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট থেকে শুরু হয় তাদের রথযাত্রা। এ বছর ইসকনের রথযাত্রার ৪৮তম বর্ষ। অন্যান্য রথযাত্রার মতোই জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মাসির বাড়ি। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান এই রথযাত্রা। এই অনুষ্ঠানেই নুসরতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসকন কর্তৃপক্ষ।

আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় অভিভূত ইসকনের কলকাতা শাখার মুখপাত্র রাধারমণ দাস বলেন, ‘‘নুসরত জাহান নতুন ভারতের প্রতিনিধি, অখণ্ড ভারতের প্রতিনিধি। অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁদের ধর্মাচরণে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভারত মহান হয়ে উঠবে। এটাই ভারতবর্ষ। নুসরতের মতো যুবসমাজই আগামীর পথ দেখাবে।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘যেখানে নিজের পছন্দ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা সবার রয়েছে, সেটাই সুখী সমাজ। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সেই স্বাধীনতা দিয়েছেন। সুতরাং, আমরা কারও সেই স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারি না।’’

আমন্ত্রণ পেয়ে আপ্লুত নুসরতও। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ইসকন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারলে সেটা হবে আমার কাছে বিরাট আনন্দের।’’ একই সঙ্গে শহরবাসীর কাছে নুসরতের আবেদন, ‘সবাই এই অনুষ্ঠানে যোগ দিন’।

আরও পডু়ন: রাজ্যের মাদ্রাসা ব্যবহার করে জঙ্গিদের সংগঠন বাড়ছে, লোকসভায় জানালেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

লোকসভায় সিঁদুর এবং মঙ্গলসূত্র পরে শপথ নিয়েছিলেন সদ্য বিবাহিত নুসরত। মুসলিম সম্প্রদায়ের হয়েও কেন সিঁদুর-মঙ্গলসূত্র পরেছেন, সেই প্রশ্ন তুলে তাঁকে ট্রোল হতে হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দের ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমি আবার আরও এক কদম এগিয়ে নুসরতের উপর কার্যত ফতোয়া জারি করেন। তাঁর সিঁদুর পরা এবং মঙ্গলসূত্র নিয়ে কটাক্ষের পাশাপাশি, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে উচিত ছিল বলে আক্রমণ করেন ইমাম।

নুসরত তখন জবাব দিয়েছিলেন, তিনি অখণ্ড ভারতের প্রতিনিধি। সেই ভারতের প্রতিনিধি, যা জাতপাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে। তিনি আরও বলেছিলেন, আমি এখনও মুসলিমই আছি...। আমি কী পরব তা নিয়ে অন্য কারও কথা বলাই উচিত নয়। ধর্মবিশ্বাস পোশাকের ঊর্ধ্বে।’’ নায়িকা সাংসদের এই মতাদর্শ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কটূ মন্তব্য করেছিলেন, তাঁদের অনেকেও উল্টে নুসরতের পাশে দাঁড়ান।

আরও পড়ুন: কার ছেলে না দেখে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত, আকাশ বিজয়বর্গীয় কাণ্ডে বললেন মোদী

হাঙ্গারফোর্ড রোড থেকে ইসকনের রথযাত্রা শেষ হয় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানে (মাসির বাড়ি) সাত দিন থাকার পর উল্টো রথে একই পথে ফের নিজের বাড়িতে ফেরেন জগন্নাথ-বলভদ্র ও সুভদ্রা। রাধারমণ দাস বলেন, ‘‘ইসকনের কলকাতার রথযাত্রা সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা রথ তৈরি করেন। তিন দেবতার নান্দনিক পোশাক তৈরিতেও অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের কারিগরদের হাত থাকে। কয়েক দশক ধরে এই রীতি চলে আসছে।’’