আর ভরসা নেই রাজ্যের পুলিশে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের নিরাপত্তার ভার নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ধনখড়ের নিরাপত্তায় সিআরপিএফ মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। খবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের। এমন ঘটনা কখনও দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছিল রাজ্য বিজেপি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর বাবুল সুপ্রিয় ঘেরাও হন। তাঁকে উদ্ধার করতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যান রাজ্যপাল। তার পর থেকেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুর ক্রমশ চড়াচ্ছে তৃণমূল। সেই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে বঙ্গ বিজেপি উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যে পদক্ষেপ করল, তাতে বোঝা গেল ধনখড়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ছিল কেন্দ্রও। অমিত শাহের মন্ত্রক এ দিন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি-কে জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজ্যপালের নিরাপত্তার ভার এ বার তুলে দেওয়া হচ্ছে সিআরপিএফ-এর হাতে।

আরও পড়ুন: মৎস্যজীবী উদ্ধারের পরে সীমান্তে বিএসএফ-কে গুলি বাংলাদেশি বাহিনীর, মৃত্যু জওয়ানের, জখম ১

রাজভবন সূত্রের খবর, সিআরপিএফের চার আধিকারিক ইতিমধ্যেই রাজভবন ঘুরে গিয়েছেন। রাজভবন তথা রাজ্যপালের নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ঠিক কী ধরনের হবে, সে বিষয়ে তাঁরা আলোচনা সেরে ফেলেছেন। জগদীপ ধনখড় জেড ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পান। এত দিন পুলিশই তাঁকে সেই নিরাপত্তা দিত। এ বার পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই একই শ্রেণির নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করবে।

পশ্চিমবঙ্গের কোনও রাজ্যপালকে নিরাপত্তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, এমন ঘটনা কিন্তু বেনজির। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনীতিক সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘৫০ বছর ধরে রাজনীতিতে আছি। কোনও দিন এমন ঘটনা দেখিনি। কোনও রাজ্যপাল নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন, এ রকম কোনও দিন শুনিনি।’’ নিরাপত্তা নিয়ে নিজের উদ্বেগ রাজ্যপাল কেন রাজ্য সরকারকে জানালেন না? প্রশ্ন তুলেছেন সুব্রত। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্য সরকারকেই তো বলতে পারতেন। রাজ্যই ব্যবস্থা করত। তা না করে রাজ্য সরকারকে ডিঙিয়ে যে ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে, তা করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’’ 

আরও পড়ুন: অভিনয় শেখানোর নামে ‘ধর্ষণ’, পরিচালকের বিরুদ্ধে তরুণীর অভিযোগ ভাইরাল ফেসবুকে

বিজেপি অবশ্য সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথা মানতে নারাজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করতে যখন গিয়েছিলেন রাজ্যপাল, তখন যে ভাবে তাঁর গাড়ির উপরে হামলা হয়েছিল, তাতে পুলিশের উপরে ভরসা রাখার আর কোনও অর্থই হয় না বলে বিজেপি নেতাদের মত। তার পরে কখনও রাজ্যপালের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠক নিয়ে, কখনও জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ড নিয়ে, কখনও কার্নিভালে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘অপমান’ করার অভিযোগ নিয়ে যে ভাবে রাজ্যপালের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে, তাতে রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে বিজেপি নেতাদের মত। রাজ্য বিজেপির তরফ থেকেও রাজ্যপালের জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাই চাওয়া হচ্ছিল, দাবি যুবনেতা শঙ্কুদেব পন্ডার। বিজেপি নেতারা বলছেন, পুলিশকে দিয়ে রাজ্য সরকার গোয়েন্দাগিরি চালাচ্ছিল, রাজ্যপালের সমস্ত গতিবিধির খবর, রাজভবনের নানা খবর পুলিশমন্ত্রীর কাছে পাঠাচ্ছিল পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘যাদবপুরের ঘটনার পর আমাদের তরফে রাজ্যপালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। অতিরিক্ত ২ জন অফিসার এবং ৬ জন কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়েছিল। তিনি কখনও নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন, এমন কোনও আশঙ্কার কথা আমাদের জানাননি।”