হাতে মাত্র কয়েকটা দিন। অথচ বিপুল ভোটারের তথ্য যাচাই (ইভিপি) বাকি রয়েছে। কারণ, বুধবার পর্যন্ত দেশে মাত্র ১৬ শতাংশের মতো ভোটার ইভিপি’তে অংশ নিয়েছেন। 

গত ১ সেপ্টেম্বর তথ্য যাচাই কর্মসূচি শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। শুরুর কয়েক দিন বাদে সব সময়েই সংখ্যার নিরিখে তথ্য যাচাই কর্মসূচিতে দেশে শীর্ষস্থানে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। গত কয়েক দিনের পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির অনেকটা বদল হয়েছে। সংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ। এ রাজ্যে ২.৩১ কোটি ভোটার তাঁদের তথ্য যাচাই করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের থেকে ৮৬ লক্ষ ভোটার বেশি তথ্য যাচাই করেছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে ৩.১৭ কোটি ভোটার এখনও পর্যন্ত ইভিপি’তে অংশ নিয়েছে। সংখ্যার নিরিখে রাজস্থানের পরিস্থিতিও অনেকটা ভাল। সেখানের ২.২ কোটি ভোটার অনলাইনের মাধ্যমে তাঁদের নাম, ঠিকানা, বয়স, সম্পর্ক, ছবি যাচাই করেছেন। শতাংশের নিরিখে তিনটি রাজ্য—মিজোরাম, রাজস্থান এবং দিল্লি অন্যদের অনেকটাই পিছনে ফেলেছে। দেশে প্রায় ৯১ কোটি ভোটার রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি ভোটার তথ্য যাচাই করেছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। 

গত এক মাস ধরে চলা কর্মসূচির গোড়ার কয়েক দিন বাদে শীর্ষে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তা-হলে কেন পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়ল? কমিশনের একাংশের মতে, বঙ্গে দুর্গাপুজোয় মানুষ উৎসবের মেজাজে থাকেন। ফলে যে কোনও কর্মসূচিই ধাক্কা খেতে বাধ্য। ব্যতিক্রম হয়নি ইভিপি’ও। তবে উৎসবের রেশ কাটিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ফের শীর্ষে যাবে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের। 

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে শতাংশের নিরিখে বেশ কিছু দিন ধরেই শীর্ষে রয়েছে নদিয়া। পুজোর পরেও নদিয়াকে স্থানচ্যুত করতে পারেনি বঙ্গের অন্য জেলা। নদিয়াতে ৬৫ শতাংশ (২৬ লক্ষ) ভোটার ইভিপিতে অংশ নিয়েছেন। কালিম্পংয়ে ৬৩ শতাংশ এবং কোচবিহারে ৫৮ শতাংশ ভোটার তথ্য যাচাই করেছেন। তবে সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা। গত ৩৯ দিনে সেখানে ২৮ লক্ষ ভোটার তথ্য যাচাই করেছেন। পাশ্ববর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তা করেছেন ২৩ লক্ষ ভোটার। 

ইভিপি’র জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা স্থির করেছে কমিশন। কিন্তু এখনও দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোটার তথ্য যাচাই করেননি। মাত্র চার দিনের মধ্যে কীভাবে এই বিপুল সংখ্যক ভোটার তথ্য যাচাই করতে পারবেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে ইভিপি’র জন্য সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা অনেকাংশেই রয়েছে বলে কমিশনের অনেকে মনে করছেন।