কেরলের মন্দিরের উৎসবে হিংস্র হাতির আক্রমণ। আলাদা আলাদা দু’টি ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের। আহতও হয়েছেন অনেকে। শুক্রবার কেরলের এরনাকুলাম এবং ত্রিশূর জেলার দু’টি মন্দিরে মর্মান্তিক ঘটনা দু’টি ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে এক জন লরিচালক এবং এক জন তরুণ মাহুতের। ঘটনাটির পর মন্দিরের উৎসবস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় উদ্যাপনের সময় পোষা হাতির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হাতির হামলায় সেই ঘটনা সংক্রান্ত ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি শুক্রবার সকালে এরনাকুলাম জেলার আঙ্গামালির কাছে কিডাঙ্গুর শ্রী মহাবিষ্ণু মন্দিরে উৎসব-পরবর্তী কার্যকলাপের সময় ঘটে। জানা গিয়েছে, মায়ানাদ পার্থসারথি নামের হাতিটিকে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ জল খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় সে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। হঠাৎ করেই হিংস্র হয়ে ওঠে বিশাল প্রাণীটি। আক্রমণ করে বিষ্ণু নামে কোল্লামের এক লরিচালককে। বিষ্ণুই হাতিটিকে মন্দিরপ্রাঙ্গণে নিয়ে এসেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতিটি শুঁড় দিয়ে বিষ্ণুকে ধরে শূন্যে তুলে দেয়। তার পর মাটিতে আছড়ে পায়ে পিষে দেয় তার দেহ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিষ্ণুর। এর পর উত্তেজিত হাতিটি ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করলে মন্দিরচত্বরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। হাতিটি একাধিক বার মন্দিরের পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িকে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করে। কাছাকাছি থাকা একাধিক বাইকও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আতঙ্কে দৌড়োদৌড়ি শুরু করেন পুণ্যার্থী এবং মন্দিরকর্মীরা। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, বন বিভাগের একটি বিশেষ স্কোয়াডের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর বনকর্তারা সফল ভাবে প্রাণীটিকে চেতনানাশক দিয়ে কাবু করেন। শৃঙ্খলা ফিরে আসে ঘটনাস্থলে। হাতিটিকে শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রধান মাহুত প্রদীপ গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও খবর। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
হাতির হামলার দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে। ত্রিশূর জেলার ইরিঞ্জালাকুডার কুডালমানিক্যম মন্দিরে ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেই একটি পুজোর শোভাযাত্রার সময় ভাজাভাদি কাসিনাথন নামের হাতিটি অস্থির হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার বিকেলে প্রাণীটি তার অস্থায়ী খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাহুতদের উপর হামলা চালায়। সে সময়ই হাতিটির পায়ের নীচে চাপা পড়ে শ্রীকুট্টান (২৫) নামে এক মাহুত। বুকে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে ইরিঞ্জালাকুডা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
আরও পড়ুন:
উভয় ঘটনাই ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর পরেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মন্দিরগুলিতে উৎসবের কার্যক্রম সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেন। নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলাকালীন স্থানীয় পুলিশ এবং বন কর্মকর্তারা মন্দিরচত্বর দু’টি সুরক্ষিত করেন। কেরলের মন্দিরে উৎসবের দিনগুলিতে প্রায়শই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার অংশ হিসাবে পোষা হাতি নিয়ে আসা হয়, যা বিপুল জনসমাগম আকর্ষণ করে। তবে হাতির হানায় দুর্ঘটনাও ঘটে। শুক্রবারের দুর্ঘটনা দু’টি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই প্রথা নিয়ে।