ইরান যুদ্ধ কি অবসানের পথে? আবার তেমনই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের থেকে ‘বড় মূল্যের উপহার’ পেয়েছেন! শুধু তা-ই নয়, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে মার্কিন দাবি নাকি মেনে নেবে তেহরান, এমনই জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি করতে ‘মরিয়া’ ইরান। সে দেশের প্রশাসনের ‘সঠিক লোকদের’ সঙ্গে আমেরিকার কথা হচ্ছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আমেরিকা। হামলা, পাল্টা হামলায় তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। কবে এই যুদ্ধ শেষ হবে, তা ভাবাচ্ছে গোটা বিশ্বকে। কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ় প্রণালী একপ্রকার ‘অবরুদ্ধ’! পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি, অপরিশোধিত তেল বা পণ্যের একটা বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেই প্রণালী ইরান ‘আটকে’ রাখায় জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় ভুগছে বহু দেশ। সেই আবহে ট্রাম্প জানালেন, ইরানের থেকে ‘বড় উপহার’ পেয়েছেন তিনি। কী সেই ‘উপহার’, তা খোলসা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে জানিয়েছেন, এই ‘উপহার’ তেল-গ্যাস এবং হরমুজ় প্রণালী সম্পর্কিত!
ট্রাম্পের কথায়, ‘‘ওরা (ইরান) এমন একটা কাজ করেছে, তা অসাধারণ। ওরা আমাদের একটা উপহার দিয়েছিল। সেই উপহার আজ (মঙ্গলবার, স্থানীয় সময়) এসে পৌঁছেছে। উপহারটি অনেক বড় এবং বিপুল মূল্যের।’’ কী সেই উপহার? সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি সেটা আপনাদের বলব না। তবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমরা সঠিক মানুষদের সঙ্গে কাজ করছি।’’
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বিরোধের মূলে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ট্রাম্প প্রশাসন চায় না, ইরান এই কর্মসূচি চালিয়ে যাক। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে আমেরিকা। তবে নানা কারণে সেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। আলোচনার টেবিলে ভেস্তে গিয়েছে। ইরান দাবি করে, তারা আমেরিকার সামনে ‘মাথা নত’ করবে না। যদি চুক্তি করতেই হয় তো, তা হবে নিজেদের ‘শর্তে’। ইরানের দাবি মানতে নারাজ আমেরিকা। তারাও নিজেদের মতো করে শর্ত চাপিয়ে রেখেছে। সেই টালবাহানার মধ্যে ট্রাম্প এ বার দাবি করলেন, ‘‘ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং তা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। তারা পারমাণবিক অস্ত্র না-রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আর এই যুদ্ধে ‘জয়’ পেয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘ওদের সব নেতারা শেষ হয়ে গিয়েছে। ওরা নতুন নেতা বেছে নিয়েছে। তবে তাঁদেরও শেষ করার ক্ষমতা আমাদের আছে । কিন্তু আমরা দেখতে চাই তাঁরা কেমন হন। আমরা সত্যিই ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করেছি। যাঁরা সমস্যা তৈরি করেছিলেন, তাঁরা কেউ বেঁচে নেই।’’ ট্রাম্প মনে করেন, এখন ইরানের যে নেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের কথা হচ্ছে, তাঁরা ‘সঠিক লোক’। আর আলোচনায় ‘সমাধান’ মিলবেই, আশাবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দিন দুয়েক আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আপাতত পাঁচ দিনের জন্য মার্কিন বাহিনী ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা করবে না! সেই ঘোষণার সঙ্গে ট্রাম্প এ-ও জানান, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা চলছে। এবং সেই আলোচনা ‘ইতিবাচক’। যদিও ইরান ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যা ঘটেছে তা হল, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প আবার দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তির জন্য তেহরান যোগাযোগ করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘ওরা একটা চুক্তি করতে মরিয়া। তারা কতটা মরিয়া, তা আপনারা কল্পনা করতে পারবেন না!’’