পাকিস্তানে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের সমঝোতার আলোচনা ব্যর্থ হতেই তেহরানকে খোঁচা দিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁরা যে অভিযান শুরু করেছিলেন, তা সফল হয়েছে। সেই সঙ্গে নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরাই আটকে পড়েছে তেহরান।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘‘অভিযান এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু এটা পরিষ্কার যে, আমরা ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছি। ইরান আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমাদের শ্বাস রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল। এখন আমরাই ওদের শ্বাস রুদ্ধ করে মারছি।’’ গাজ়ায় হামাস, লেবাননে হিজ়বুল্লা, সিরিয়ায় আসাদ শাসন, ইয়েমেনে হুতি এবং ইরাকের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে ইরান আসলে ইজ়রায়েলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে চেয়েছিল বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা আমাদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছিল। এখন নিজেরাই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়ছে।’’
আরও পড়ুন:
গত মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এর পর শনিবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা সমঝোতার আলোচনায় মুখোমুখি বসেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়ে দিয়েছেন, খালি হাতে তাঁকে আমেরিকায় ফিরতে হচ্ছে। কারণ, ইরান তাঁদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি। ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। পাল্টা ইরানের দাবি, আমেরিকার অযৌক্তির চাহিদার কারণেই সমঝোতা ভেস্তে গিয়েছে। আর আলোচনায় বসতে তারা রাজি নয়। এর মধ্যেই নেতানিয়াহু কটাক্ষ করলেন তেহরানকে।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তান ছাড়ার আগে ভান্স জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের তরফে সেরা প্রস্তাবটি ইরানকে দিয়ে এসেছেন। তেহরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চায় ওয়াশিংটন। এ ছাড়াও একাধিক বিষয়ে মতানৈক্য হয়েছে। তবে ইরান আগামী দিনে প্রস্তাব গ্রহণ করবে বলে ভান্স আশাবাদী। যদিও তেহরানের তরফে তেমন কোনও আশার কথা শোনানো হয়নি।