ময়না-তদন্তের জন্য আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল দেহ। সেই দেহের চোখ কেউ খুবলে নিয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন মৃতের পরিজনেরা! সুবিচারের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, চোখ কেউ তুলে নেয়নি। ইঁদুরে খুবলে নিয়ে থাকতে পারে। তদন্ত করে দেখা যাচ্ছে।

এ দিন মৃতের ছেলে শ্রীকান্ত দাস জানান, গত ১৫ অগস্ট তাঁদের বাড়ির সামনেই অসুস্থ হয়ে পড়ে যান পাইকপাড়ার বাসিন্দা শম্ভু দাস (৬৯)। তড়িঘড়ি তাঁকে আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রবিবার দুপুরে সেখানে শম্ভুবাবুর মৃত্যু হয়। ছেলের বক্তব্য, যে হেতু তাঁর বাবা রাস্তায় পড়ে আঘাত পান, সেই জন্য চিকিৎসকেরা জানান, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে দেহের ময়না-তদন্ত হবে। তাতে পরিজনেরা আপত্তি করেননি। শ্রীকান্তের দাবি, এ দিন দেহ নেওয়ার সময়ে পুরো শরীর কাপড়ে মুড়ে পরিজনদের দেওয়া হয়। মুখের কাপড় সরিয়ে তাঁরা দেখেন, মৃতের চোখ দু’টি খুবলে নেওয়া হয়েছে। শ্রীকান্তের কথায়, ‘‘কী ভাবে হল, জানতে চাইলে মর্গের এক কর্মী বলেন, ইঁদুরে খুবলে নিয়েছে।’’

এর পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃতের পরিজনেরা। ঘটনাস্থলে যান আর জি কর ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা। হাসপাতালে ইঁদুর-বেড়ালের দৌরাত্ম্য নিয়ে এর আগেও রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা অভিযোগ করেছেন। 

হাসপাতাল সূত্রের খবর, মৃতদেহ যেখানে রাখা ছিল, সেখানে কোনও ভাবে ইঁদুর ঢুকে পড়াতেই বিপত্তি ঘটেছে। অধ্যক্ষ শুদ্ধোদন বটব্যাল বলেন, ‘‘ইঁদুরের দৌরাত্ম্য তো রয়েছে। ইঁদুর স্টিলও কেটে দিচ্ছে। দুর্ঘটনা একটা ঘটেছে। কী কারণে হল, তা খতিয়ে দেখা হবে।’’