সংস্কৃতে শপথবাক্য পাঠ করে নজির সৃষ্টি করলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার সংসদে তিনি সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। বালুরঘাট থেকে জয়ী সাংসদদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই সংস্কৃত ব্যবহার করে নজির গড়লেন। 

কেন তিনি বাংলা ছেড়ে হঠাৎ সংস্কৃত ভাষায় শপথ নিলেন?

দিল্লি থেকে এ নিয়ে ফোনে সুকান্ত বলেন, ‘‘অধিকাংশ ভাষার জন্ম হয়েছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। তাই সংস্কৃত ভাষাকে অন্য ভাষার মাতৃভাষা বলে। গোটা ভারতবর্ষের সমস্ত ভাষার মূলই সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সেই সামগ্রিক ভাবনা থেকে, বালুরঘাট শহর গোটা দেশের সমস্ত ভাষার প্রতিনিধিত্ব করছে এই উদ্দেশ্যেই সংস্কৃত ভাষায় শপথ নিয়েছি।’’ 

এই সাংসদ ইতিমধ্যেই জেলার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের কাছে দরবার শুরু করেছেন। জেলার কর্মসংস্থান থেকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে ইতিমধ্যেই সংসদে সরব হতে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এজন্য সংসদে বেশ কয়েকটি প্রশ্নও তিনি পাঠিয়েছেন। তার মধ্যে বালুরঘাট-হিলি রেল সম্প্রসারণের কাজ বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, জেলার কর্মসংস্থানের জন্য কী কী উদ্যোগ হয়েছে,  এই প্রশ্নগুলি রয়েছে। সুযোগ পেলেই সংসদে এ নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছেন। সুকান্ত বলেন, ‘‘জেলার উন্নয়নের জন্য আমি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে সংসদে সরব হব। ইতিমধ্যেই অনেকগুলি প্রশ্ন করে রেখেছি। লটারির মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলি বাছাই হবে। আমি সুযোগ পেলেই জেলার উন্নয়নে আমার তরফ থেকে একশ শতাংশ চেষ্টা করব।’’ 

বালুরঘাটের নতুন এই সাংসদের কাছে জেলার বাসিন্দারাও বেশ কিছু দাবি রেখেছেন। জেলার ব্যবসায়ী মহল থেকে বিভিন্ন স্তরের নাগরিকরা ইতিমধ্যেই বালুরঘাট-হিলি, বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল সম্প্রসারণ, বালুরঘাট-হাওড়া সপ্তাহিক ট্রেনটি প্রত্যহ চালু করা, জেলায় শিল্পের সম্ভাবনা তৈরিতে উদ্যোগী হওয়ার মতো একগুচ্ছ আবেদন জানিয়েছেন জেলাবাসী। সেই আবেদনগুলি নিয়েও সংসদে বালুরঘাটের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরবেন বলে বিজেপির এই অধ্যাপক সাংসদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, জেলায় শিল্প স্থাপনে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ইতিমধ্যেই তিনি ব্যক্তিগত স্তরে আলোচনা করেছেন বলেও সুকান্তের দাবি। মুম্বই ও বেঙ্গালুরু থেকে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা বালুরঘাটে বিনিয়োগ করতে আগ্রহও দেখিয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই অবস্থায় বালুরঘাটের জন্য সুকান্ত কী করছেন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলাবাসী।

বাংলায় থাকতে হলে বাঙালি ও অবাঙালিদের অন্য ভাষার পাশাপাশি বাংলায় কথা বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার দিল্লির সংসদে বাংলা ভাষায় শপথবাক্য পাঠ করলেন রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। এদিন সাংসদ হিসেবে শপথ নেন দেবশ্রী। দেবশ্রীর বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন, আমার জানা নেই। তিনি বাংলাকে মর্যাদা দিলে আজ এরাজ্যে অপশাসন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও স্বেচ্ছাচারিতা সেরার শিরোপা পেত না। আমি বাঙালি। তাই বাংলায় শপথ নিয়েছি। তা ছাড়া, বাংলা আমার মাতৃভাষা। বাংলা ভাষাকে সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই আমি বাংলাকে প্রচারের আলোয় আনতে চেয়েছি।’’