ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পেজ়েশকিয়ানকে ইদ এবং ইরানি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি এবং স্থিতাবস্থার পক্ষেও সওয়াল করেছেন মোদী। ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথ খোলা রাখা এবং সেখান থেকে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়েও কথা হয়েছে দু’জনের। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন মোদী।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শনিবার চতুর্থ সপ্তাহে পড়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় এই যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। একই রকম ভাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়েছে। ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যে হামলাগুলি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনার নির্যাস সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মোদী। তিনি লেখেন, ‘‘মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা হল। তাঁকে ইদ এবং নওরোজ় (ইরানি নববর্ষ)-এর শুভেচ্ছা জানালাম। আমরা আশা করছি, এই উৎসবের মরসুম পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতাবস্থা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতাবস্থাকে বিপন্ন করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটায়।’’
বস্তুত, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালীকে ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। যদিও কিছু ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী নিরাপদে পার করার ছাড়পত্র দিয়েছে তারা। তবে এখনও ওই জলপথে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। সমুদ্রপথের ওই অনিশ্চয়তা কাটানোর বিষয়েও শনিবার পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘সমুদ্রপথগুলি খোলা রাখা এবং সেগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। নৌচলাচলের স্বাধীনতা থাকা দরকার। এগুলির গুরুত্বের কথা জানিয়েছি। ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইরানের সহযোগিতারও প্রশংসা করেছি।’
আরও পড়ুন:
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালীতে তেহরানের অবরোধের জেরে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে আগেই জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছি যাতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনগুলি পূরণ করা যায়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে কথা বলছেন। আপনারা কয়েক দিন আগে দেখেছেন যে কূটনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা সফল হয়েছিলাম। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে, আমরা আমাদের দু’টি এলপিজিবাহী জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পার করাতে পেরেছি।’’
এ বার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার সময়েও জাহাজপথের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরেন মোদী। যদিও তাঁর পোস্টে সরাসরি হরমুজ় প্রণালীর কথা উল্লেখ নেই। তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।