সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষিত হল। ২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন অস্ট্রিয়ার লেখক পিটার হ্যান্ডকে। শুধু এই বছরেরই নয়, এদিন সুইডিশ অ্যাকাডেমির সচিব ম্যাটস মালম স্টকহলম থেকে প্রেসবিবৃতি দিয়ে ২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার প্রাপকের নামও ঘোষণা করলেন। পোলান্ডের সাহিত্যিক ওলগা তোকারসুক ওই বছরের পুরস্কার প্রাপক।

৫৭ বছর বয়েসি লেখিকা তোকারসুক সাহিত্যের জগতে পা রাখেন কবিতার হাত ধরে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সিটিজ অফ মিররস।’ ১৯৯৩ সালে তোকারসুকের প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জার্নি অব দ্য বুক পিপল’ প্রকাশিত হয়। সতেরো শতকের প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাসের আখ্যান এক প্রেমিক দম্পতির একটি হারিয়ে যাওয়া বই অন্বেষণ নিয়ে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে বুকারও পেয়েছিলেন তোকারসুক। এ বছর সুইডিশ নোবেল কমিটি ওই একই বছরের নোবেল প্রাপক হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে বলে, তোকারসুক এমন একজন আখ্যানকার যিনি কল্পনা দিয়েই দেশকালের সীমা ভেঙে দেন।

২০১৯ সালের নোবেলজয়ী লেখক পিটার হ্যান্ডকের জন্ম সোভিয়েত অধিকৃত বার্লিনে, ১৯৪২ সালে। ১৯৬৫ সালে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন, যোগ দেন আভা গার্দ আন্দোলনে। শুরু হয় ছবির চিত্রনাট্য লেখা। ১৯৭৮ সালে তাঁর নির্দেশনায় তৈরি ছবি ‘দ্য লেফট হ্যান্ডেড ওম্যান’ সে বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়। যুগস্লাভিয়া যুদ্ধের সমালোচনা করে তাঁর লেখা সারা পৃথিবীতে সমালোচনার ঝড় তোলে। যুদ্ধের কারণ ও ফল বিষয়ে বারবার পশ্চিমী দুনিয়াকে বিঁধে এসেছেন পিটার। বিতর্ক তাঁর চিরসঙ্গী হয়ে থেকেছে।

আরও পড়ুন: পাশে বসিয়ে বিশ্বতত্ত্বের ‘ঠাকুরদা’ বললেন, ‘খুঁজলে, বিগ ব্যাংয়ের আঁচ এখনও মিলবে’
আরও পড়ুন:রিচার্জ করার ব্যাটারি এনে নোবেল রসায়নে​

সাহিত্যে এক বছরেদুইজন প্রাপকের নাম ঘোষণার ঘটনা গত ৭৫ বছরে ঘটেনি। গতবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। নোবেল কমিটির বিবৃতিতে জানা যায়, পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক জনের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ, সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম ফাঁস ও কয়েকটি অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠায় অ্যাকাডেমির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে না। বিজয়ীর নামও ঘোষণা করা হবে না। তখনই জানানো হয়েছিল, পরের বছর এক সঙ্গে দু’জন প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হবে।