• সুজাতা মুখোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

করোনার চাপে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে? কী করবেন? কোন নিয়ম মানবেন?

corona
ছবি: শাটারস্টক৷

গৃহবন্দি হিসেবে নয়, বরং ভাবুন, হঠাৎ পাওয়া ছুটি৷ ঘরে শুয়ে-বসে বই পড়ে, গান শুনে বা যোগব্যায়াম করে একটু রিল্যাক্স করুন৷ ভাল করে খাওয়াদাওয়া করুন৷ টিভিতে পছন্দের অনুষ্ঠান দেখুন৷ মন হালকা হলে, মাথা ঠান্ডা হলে নিজেই বুঝতে পারবেন যে এই ভাইরাসকে নিয়ে সারা ক্ষণ অত ভাবার কিছু নেই৷ সে জ্বালাতন করে ঠিকই, টেনশনে ফেলে দেয়, তবে নিয়ম মানলে ও ডাক্তারের পরামর্শ মতো চললে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সে তেমন কিছুই করতে পারে না৷

কাজেই টেনশন না করে কেন আপনাকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে, চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে হোম কোয়রন্টিন বলা হয়, তা বুঝে নিন৷ এই ১৪টা দিন বা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি দিন কী ভাবে কাটাবেন তা জেনে সেইমতো চলুন৷

ঘরে থাকতে হবে কাদের?

আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত না হলে মোটামুটি অনেককেই থাকতে বলা হচ্ছে৷ বিশেষ করে—

আরও পড়ুন: কোথায় গৃহবন্দি? বিদেশ থেকে ফিরে ঘুরছেন পুলিশ কর্তার ছেলে

·        সংক্রামিত হলে যাঁদের চট করে বিপদ হতে পারে৷ যেমন, যাঁদের বয়স ষাটের উপরে, শিশু ও গর্ভবতী মহিলা, কোনও জটিল ক্রনিক অসুখে ভুগছেন ও কোনও অসুখ বা ওষুধের কারণে যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম৷

·        বিভিন্ন কারণে যাঁদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা আছে৷ যেমন,

.   বাড়িতে কারও এই সংক্রমণ হয়েছে৷

.   বিদেশের এমন জায়গা থেকে এসেছেন যেখানে এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে৷

.   প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে কোভিড ১৯ রোগীর সঙ্গে কোনও রকম ঘনিষ্ঠ শারীরিক যোগাযোগ হয়েছে৷

আরও পড়ুন: সাবধান হোন, করোনাভাইরাসের স্টেজ থ্রি আটকাতে হবে

.   কোভিড ১৯-এর কোনও রোগীর সঙ্গে কোথাও গিয়েছেন বা কোনও জায়গা থেকে এসেছেন৷ তাঁর সঙ্গে যাতায়াত বা গল্পগুজব করার সময় দু’জনের মধ্যে দূরত্ব এক মিটারের বেশি ছিল না৷ একই ফ্লাইটে পাশাপাশি বা সামনে-পিছনে বসে এলে বা সেই ফ্লাইটের ক্রুদেরও সমস্যা হতে পারে৷

এ বারে প্রশ্ন, ঘরে কী ভাবে থাকবেন? তা জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে৷

ঘরে থাকার নিয়ম

·        পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে এমন ঘরে থাকুন৷ দরকার হলে এসি অবশ্যই চালাবেন৷ অন্য সময় ঘরে বাতাস চলাচল করতে দিন৷

·        সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি হাই রিস্ক রোগীদের জন্য যে যে নিয়ম মানার কথা বলা হয়েছে, সে সব মেনে চলুন৷ শরীরে ভাইরাস থাকার আশঙ্কা থাকলে মাস্ক পরে থাকুন৷

·        বাড়িতে কারও হাঁচি-সর্দি-কাশি হলে তাঁর থেকে দূরে থাকুন৷

·        খাবার নিজে রান্না করে খান বা হোম ডেলিভারি করান৷ সাহায্যকারী থাকলে তো আরও ভাল৷

·        আগে থেকে একটু বাজারহাট করে রেখে দিন৷ এমনিতেই তো ১৪ দিনের মতো ঘরে থাকতে হবে৷ তার উপর যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে রোগ ঠেকানোর খাতিরে ঘরে থাকার মেয়াদ বাড়বে৷ আগে থেকে প্রস্তুত না থাকলে সমস্যায় পড়বেন৷

·        অতিথি আপ্যায়ন করার খুব একটা দরকার নেই এ সময়৷ নিতান্ত কেউ এসে গেলে তাঁকে হাত ধুয়ে তবে ঘরে আসতে বলুন৷ একসঙ্গে দু’-জনের বেশি নয়৷ ঘরের দরজা-জানলা সব খুলে রাখুন৷ কম করে সাড়ে ছ’ ফুট দূরত্ব থেকে কথা বলুন৷ প্রয়োজনে মাস্ক পরে নিন৷

·        শরীরে কুলোলে একটু-আধটু ব্যায়াম করুন৷ বাগানে, ঘরে বা ছাদে৷ তবে আশপাশে কেউ থাকলে তাঁর সঙ্গে কম করে ৬ ফুটের দূরত্ব যেন থাকে৷

·        ঘরে শুয়ে-বসে থেকে একঘেয়ে লাগতে পারে৷ গ্রাস করতে পারে বিরক্তি, রাগ, হতাশা, অনিদ্রা৷ তা থেকে মুক্তি পেতে আবার মদ-সিগারেট খেতে শুরু করবেন না৷ মদ খেলে ভাইরাস দূরে থাকে বলে যে প্রচার চলছে, তা কিন্তু নেহাতই গুজব৷ উল্টে আরও ক্ষতি হয়ে যেতে পারে৷

·        ফোনে বা মেলে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন৷ তবে সব গল্পই যেন নভেল করোনা সংক্রান্ত না হয়৷

·        এ সময় কোনও বিশেষ চিকিৎসার ব্যাপার নেই৷ সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পাশাপাশি কোনও সমস্যা দেখা দিচ্ছে কি না, সেটুকুই কেবল খেয়াল রাখতে হয়৷

·        কপালের দোষে যদি ভাইরাসের কবলে পড়েই যান, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে পরের পদক্ষেপ ঠিক করুন৷ কী কী উপসর্গ দেখা দিলে আর ঘরে থাকা সমীচীন হবে না তা জেনে নিন৷ তবে আপনার নির্দিষ্ট অসুখের জন্য যা যা ওষুধ খাচ্ছিলেন, তা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না৷

·        সংক্রামিত হলে কে আপনার দেখভাল করবেন তা ঠিক করে রাখুন৷

বাড়ির অন্যরা

·        সম্ভাব্য রোগীর সঙ্গে থাকছেন৷ কাজেই আপনাকে এতটুকু ঢিলে দিলে হবে না৷ সবরকম নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন৷ ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া করে নিজেকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন৷

·        গৃহবন্দি মানুষটি ওষুধপত্র ঠিকঠাক খাচ্ছেন কি না, খাবার খাচ্ছেন কি না বা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন কি না তা দেখা কিন্তু আপনার কাজ৷

·        তিনি অসুস্থ হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন, তা জেনে রাখুন৷

·        হাসপাতালে ভর্তি করতে গেলে কোথায় অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে রাখুন৷

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন