বন্দিদশা কাটিয়ে ইরান থেকে রাজ্যে ফিরলেন ১১ জন শ্রমিক। আর এক শ্রমিক দেবাশিস মালিক আগামী শনিবারের মধ্যে ফিরে আসবেন বলেই দাবি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার। পাসপোর্ট এবং ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা হওয়ায় বুধবার রাজ্যে ফিরতে পারেননি দেবাশিস। 

রোজগারের আশায় এক বছর বা সাত-আট মাস আগে ইরানের চাবাহারে অন্যদের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই ১২ জন। সেখানে গিয়ে চাবাহার আজাদ-অম্বরে একটি সোনার গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থায় কাজ শুরু করেন তাঁরা। কয়েক মাস যেতে না যেতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। শ্রমিকদের পাসপোর্ট-সহ অন্য নথি আটকে রাখা হয়। বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি, খাবার-পানীয় জলও বন্ধ করা হয়। 

এ দিন রাজ্যে ফেরার পরে হুগলির পাণ্ডুয়ার যুবক মইনুদ্দিন শেখের বক্তব্য, ‘‘যেখানে কাজ করতাম, তার পাশের একটি সংস্থা বন্ধ হয়ে যায়। কথা না শুনলে সেখানকার শ্রমিকদের প্রাণে মারার হুমকি দিত ওই সংস্থা। তাতে আমরাও ভয় পেয়ে যাই। তার মধ্যেই আমাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আজ সব আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেলাম।’’ একটি মানব পাচার রোধের সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওই ১২ জন শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়। সংস্থার চেয়ারম্যান শেখ জিন্নার আলি বলেন, ‘‘শ্রমিকরা তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরছে। এটাই প্রাপ্তি।’’ ওই শ্রমিকদের সঙ্গে গিয়েছিলেন গিয়াসুদ্দিন মল্লিক। তিনিও ওই শ্রমিকদের কাজ দেওয়ার জন্য মাথা পিছু কয়েক হাজার টাকা নিয়েছিলেন। যদিও তাঁর দাবি, পুরো অর্থই খরচ হয়ে গিয়েছে। দুবাইয়ে থাকা আর এক এজেন্টের সঙ্গে কাজের বিষয়ে শ্রমিকদের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।