Advertisement
E-Paper

আমেরিকার পর পাকিস্তানকে ‘দূত’ মেনে নিল ইরানও! তবে শান্তিবৈঠকস্থল হিসাবে বিকল্প নামও রাখল তেহরান

ইরান যে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসতে চাইছে, তার সরকারি কোনও নিশ্চয়তা বা ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বরং সরকারি ভাবে তেহরান একাধিক বার এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৯
Shehbaz Sharif and Mojtaba Khamenei

(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজ়তবা খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকার প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তানই। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরান যে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসতে চাইছে, তার সরকারি কোনও নিশ্চয়তা বা ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বরং সরকারি ভাবে তেহরান একাধিক বার এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। তবে পাকিস্তানের ‘দৌত্য’ মেনে নেওয়া কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনেকের মত। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিরা যদি আলোচনায় বসেন, তবে সেই বৈঠকের স্থান হিসাবে পাকিস্তান ছাড়াও একটি বিকল্প খোলা রেখেছে তেহরান।

রয়টার্সকে ওই ইরানি আধিকারিক জানিয়েছেন, শান্তির আলোচনা হতে পারে তুরস্কেও। তারাও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। একাধিক বার এ নিয়ে তুরস্কের আধিকারিকেরা তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ যুযুধান দু’পক্ষকে মুখোমুখি বসানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। জানান, পাকিস্তানের মাটিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি-আলোচনা আয়োজন করতে চান তিনি। ট্রাম্প সেই পোস্টটিকেই ফের পোস্ট করেন। অনেকের মতে, এ ভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রস্তাবে আপাত ভাবে তাঁর সায় রয়েছে। তবে ‌এই ঘটনাপ্রবাহের পর ইরানের দিক থেকে আরও একটি নাম উঠে এল। যুদ্ধ থামানোর চেষ্টায় তুরস্কের ভূমিকাকে অবহেলা করতে রাজি নয় তেহরান।

পাকিস্তান ঠিক কী ধরনের প্রস্তাব ইরানে পাঠিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি ওই শীর্ষ আধিকারিক। ট্রাম্প যুদ্ধ থামানোর পূর্বশর্ত হিসাবে ইরানকে যে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন, তা-ই পাকিস্তানের তরফে পাঠানো হয়েছে কি না, জানা যায়নি। তবে ওই আধিকারিক জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান অথবা তুরস্কে শান্তি-আলোচনায় বসতে পারেন তাঁরা।

তুরস্কের শাসকদলের শীর্ষনেতা হারুন আর্মাগান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে বার্তা চালাচালিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন তাঁরা। আলোচনা চলছে। তবে তেহরান সরাসরি এখনও এ কথা স্বীকার করেনি। তারা যে সমঝোতা বা মধ্যস্থতায় আগ্রহী, তা-ও মেনে নেওয়া হয়নি। বরং ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন ইরানের নেতারা। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘায়েই জানিয়েছেন, আমেরিকার কূটনীতির উপর ভরসা করা যায় না। আপাতত ইরানের সেনাবাহিনী দেশরক্ষার কাজে ব্যস্ত। ইরান এবং আমেরিকার এই সমঝোতার আলোচনা নিয়ে ইজ়রায়েল কী ভাবছে, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের দাবি, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা পরিষদকে আমেরিকার প্রস্তাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম থেকেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্প অনড় ছিলেন। জানিয়েছিলেন, ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া তিনি হামলা থামাবেন না। ইরানের কুর্সিতে কারা বসবেন, তা-ও আমেরিকা ঠিক করে দেবে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে তিনি খানিক সুর নরম করেছেন। দাবি, ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান। শাহবাজ়দের সেই চেষ্টা কতটা ফলদায়ক হয়, সেটাই দেখার।

US Israel vs Iran US Iran Mojtaba Khamenei Shehbaz Sharif Pakistan Turkey Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy