পেশাদার অপরাধী দিয়ে খুন করানো হয়েছে নিমতার ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া দেবাঞ্জন দাসকে। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই মনে করছে পুলিশ। দেবাঞ্জনের বান্ধবীর ভূমিকা নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অনেক তথ্যই গোপন করছেন ওই তরুণী।

নবমীর রাতে নিমতা সর্দার পাড়ার বাসিন্দা ওই তরুণীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথেই খুন হন দেবাঞ্জন। সেই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার খুনের মামলা শুরু হওয়ার পর বিকেলেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয় দেবাঞ্জনের বান্ধবী কৃষ্ণা (নাম পরিবর্তিত) সরকারকে।

তদন্তকারীদের দাবি, উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া ওই তরুণী খুনের বিষয়ে অনেক তথ্যই জানেন। ওই তরুণীর বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীদের একাংশ।

ওই তরুণীর সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং ফোনের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

পুলিশের সন্দেহ, একই সঙ্গে দেবাঞ্জন এবং প্রাক্তন প্রেমিক প্রিন্স সিংহের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই তরুণী। এক তদন্তকারী বলেন, ওই তরুণীর একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। একটিতে বন্ধুর তালিকায় রয়েছেন দেবাঞ্জন, অন্যটিতে বন্ধুর তালিকায় রয়েছেন প্রিন্স।

দেবাঞ্জনের পরিবারের অভিযোগ, খুনের পিছনে প্রিন্সের ভূমিকা রয়েছে। দেবাঞ্জনের বাবা অরুণ দাস শুক্রবার বলেন, “ওই মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর থেকেই একাধিক বার প্রিন্স নামে ছেলেটি বুবুনকে(দেবাঞ্জনের ডাক নাম) হুমকি দিয়েছে। মৃত্যুর পনেরো দিন আগেও একবার হুমকি দিয়েছিল।”

আরও পড়ুন: শব্দমাত্রা পরীক্ষায় ফেল অধিকাংশ বাজি

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রিন্স দেবাঞ্জনের পূর্ব পরিচিত। তাঁরা এক সঙ্গে দমদমের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়তেন। আগে প্রিন্সের সঙ্গে দেবাঞ্জনের ভাল বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর প্রিন্সের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় দেবাঞ্জনের।

পুলিশের দাবি, এর আগে ওই তরুণীর প্রায় তিন বছর প্রিন্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, হুমকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই তরুণী প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে স্বীকার করেন, দেবাঞ্জনকে নিয়ে প্রিন্সের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্যের কথা। সেখান থেকেই পুলিশ জানতে পেরেছে পেশাদার অপরাধীদের প্রসঙ্গ।

আরও পড়ুন: অভিনয় শেখানোর নামে ‘ধর্ষণ’, পরিচালকের বিরুদ্ধে তরুণীর অভিযোগ ভাইরাল ফেসবুকে

তদন্তকারীদের দাবি, যে ভাবে ঠান্ডা মাথায় গুলি করা হয়েছে, তা পেশাদার অপরাধী ছাড়া সম্ভব নয়। আর এখানেই প্রশ্ন, দেবাঞ্জন যে ওই সময়ে বাড়ি ফিরবেন সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য খুনিকে দিল কে?

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের বান্ধবীকেই সবার শেষে বাড়িতে নামান ওই তরুণ। তারপরও দেবাঞ্জনের সঙ্গে কথা হয় ফোনে। ফলে ওই তরুণীই একমাত্র জানতেন দেবাঞ্জনের সর্বশেষ অবস্থান।

আরও পড়ুন: কাটা হাতে চলে না সেলাই মেশিন, ঘুম নেই প্রৌঢ়ের

পুলিশ দেবাঞ্জনের গাড়ির ফরেন্সিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি, ওই তরুণীর সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং ফোনের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে দেবাঞ্জনের কল ডিটেলসও। অন্য দিকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসাবে নাম উঠে আসা প্রিন্স সিংহের কোনও হদিশ পায়নি পুলিশ। তিনি ফেরার বলে জানা গিয়েছে তদন্তকারীদের সূত্রে।