১০ দিনের আগেকার ঘটনা থেকেও শিক্ষা হয়নি। ফের কলকাতা মেট্রোর দরজায় আটকাল হাত। তবে এ বার যাত্রী ভিতরে থাকায় বিপদ হয়নি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ দমদমগামী একটি নন এসি রেকে নেতাজি ভবন স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ দিন সাড়ে আটটা নাগাদ নেতাজি ভবন স্টেশন থেকে দমদমগামী ওই ট্রেনটি ছাড়ার মুহূর্তে হাত দিয়ে দরজা আটকানোর চেষ্টা করেন ওই যাত্রী। কিছুক্ষণ আটকে থাকার পর যদিও দরজা খুলে যায়। ওই অবস্থায় তিনি কোনও রকমে ট্রেনের ভিতরে উঠে যান। 

মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ট্রেনে ভিড় ছিল না। তা সত্ত্বেও দরজা বন্ধ হওয়ার সময় হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেন। ওই যাত্রীকে জরিমানা করা হয়েছে।

মেট্রোর এক পদস্থ কর্তার বক্তব্য, মেট্রোর দরজায় তাঁর হাত আটকে গিয়েছিল, না কি তিনি জোর করে হাত দিয়ে দরজা বন্ধ হওয়ার মুখে খোলার চেষ্টা করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই স্টেশনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আরপিএফ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।  

গত ১৩ জুলাই কবি নজরুলগামী একটি মেট্রোয় পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে প্রায় একই ভাবে দরজা খোলার চেষ্টা করেন সজল কাঞ্জিলাল নামে এক যাত্রী। দরজায় হাত আটকে যায় তাঁর। ওই অবস্থাতেই মেট্রো ছুটতে শুরু করে। কিছুটা টানেলের ভিতরেও ঢুকে যায় মেট্রোর সামনের দিকের অংশ। টানেলে ঢুকতেই দরজা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় সজলবাবুর। 

আরও পড়ুন: খবর দিল ফেসবুক, পিকনিক গার্ডেনে যুবকের আত্মহত্যা রুখল পুলিশ

আরও পড়ুন : খেজুরিতে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষ, মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ ৩ বছরের শিশু

তার পর থেকে টানা প্রচার চলছে মেট্রোতে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে থাকা আরপিএফ কর্মী এবং চালক-গার্ডদেরও সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রোর তরফে ঘোষণা করা হয়, কেউ বিপজ্জনক ভাবে মেট্রো ছাড়ার সময় হাত বা ব্যাগ জাতীয় কোনও কিছু দিয়ে দরজা বন্ধ হওয়ার সময় খোলার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হবে। অপরাধের গুরুত্ব বুঝে তাঁর জেলও হতে পারে। কিন্তু তার পরও যে এক শ্রেণির যাত্রীদের হুঁশ ফিরছে না, তা এই ঘটনায় ফের স্পষ্ট।