পাকিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে সন্ত্রাস চালাতে দেওয়া বন্ধ করুক ইসলামাবাদ, আজ ফের এই বার্ত দিল আমেরিকা। সেই সঙ্গে লস্কর-ই-তইবা ও তাদের নেতা হাফিজ় সইদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। 
জঙ্গিদের আর্থিক মদত বন্ধে পাকিস্তান উপযুক্ত পদক্ষেপ করেছে কি না তা নিয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ (এফএটিএফ)। এ দিনই প্যারিসে ওই সং‌স্থার বৈঠক শুরু হয়েছে। তার আগে ওয়াশিংটনের এই বার্তা যথেষ্টই উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। 
গত বৃহস্পতিবার লস্কর ই তইবার চার শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করে পাক গোয়েন্দা সংস্থা। এরা হল জাফর ইকবাল, ইয়াহা আজিজ, মহম্মদ আশরফ ও আব্দুল সালাম। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে লস্কর প্রধান হাফিজ় সইদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় জোর দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া শাখার প্রধান অ্যালিস ওয়েলস। তিনি টুইট করেন, ‘‘পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানই বলেছেন, জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। আমাদের আশা, পাকিস্তান সেই পদক্ষেপ করবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘হামলায় দায়ী লস্কর জঙ্গিদের শাস্তি হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি সুবিচার পাবে। সম্প্রতি ধৃত চার জঙ্গির পাশাপাশি হাফিজ় সইদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হোক।’’ গত বছর জুন মাসে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করে এফএটিএফ। তাদের একটি ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০১৯-এর অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রুখতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে। পাক সরকার সেই পদক্ষেপ করতে পেরেছে কি না তা নিয়ে এফএটিএফ-র বৈঠকে আলোচনা হবে। কূটনীতিকদের মতে, জঙ্গিদের অর্থ জোগান বন্ধে  উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে আন্তর্জাতিক আর্থিক সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান।